র’ক্তচন্দনের কেন এতো দাম? কেন এতো চাহিদা? ‘পুষ্পা’র সাফল্যে আলোচনার তুঙ্গে

আল্লু অর্জুন এবং রেশ্মিকা মান্দানা অ’ভিনীত ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ একটি সাধারণ কাহিনি মনে হলেও আদতে এটা কিন্তু অনেকটা সত্য ঘটনার উপরই আধারিত। র’ক্তচন্দনকে ‘লাল সোনা’ বলা হয়। সোনার মতোই মূল্যবান এই গাছ। এই গাছ খুবই বিরল প্রজাতির।

‘পুষ্পা’ ছবিতে যে শেষাচলম জঙ্গলের কথা বলা হয়েছে র’ক্তচন্দন ওই শেষাচলম পাহাড়ের ঘন জঙ্গলেই পাওয়া যায়। ভা’রতের তামিলনাড়ু লাগোয়া অন্ধ্রপ্রদেশের চার জে’লা— নেল্লোর, কুর্নুল, চিতোর এবং কাডাপ্পা জে’লাতে এই গাছ মেলে। পূর্বঘাট পর্বতের আবহাওয়ায় এই গাছ খুব ভাল হয়। এক একটি গাছের উচ্চতা ৮-১২ মিটার। দুই ধরনের চন্দনকাঠ পাওয়া যায়। সাদা এবং লাল।

সাদা চন্দনে সুন্দর গন্ধ থাকলেও লাল বা র’ক্ত চন্দনে কোনও গন্ধ নেই। কিন্তু এই কাঠের বিশেষ গুণের জন্যই বিশ্ব জুড়ে বিপুল চাহিদা। আর সেই চাহিদার কারণেই এই কাঠ পাচার হয়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সঙ্ঘ (আইইউসিএন) ২০১৮-য় এই গাছকে ‘প্রায় বিলুপ্ত’ শ্রেণির তালিকাভুক্ত করেছে। এই কাঠ এত বিপুল পরিমাণে কা’টা এবং পাচার হয়েছে যে, আর মাত্র পাঁচ শতাংশ গাছ পড়ে রয়েছে।

কেন এতো চাহিদা এই কাঠের: আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে এই কাঠের বিপুল ব্যবহার হয়। হ’জম, ডায়েরিয়া-সহ বেশি কিছু রোগের চিকিৎসায় এই কাঠ কাজে লাগে। র’ক্ত শুদ্ধিকরণের গুণও রয়েছে এই কাঠের। ওষধি গুণ ছাড়াও ম’দ তৈরিতে এই কাঠের বিপুল চাহিদা। এ ছাড়া পূজা-আর্চনা, প্রসাধনী দ্রব্য তৈরিতেও এই কাঠ ব্যবহার করা হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে কেজি প্রতি তিন হাজার টাকা থেকে এই কাঠ বিক্রি শুরু হয়। ভা’রতে এই গাছ কা’টা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। তার পরেও পাচার হয়। পাচার রোখার জন্য ‘রেড স্যান্ডলার্স অ্যান্টি-স্মাগলিং টাস্ক ফোর্স’ও গঠন করা হয়েছে। ২০২১ সালে ৫০৮ কোটি টাকার র’ক্তচন্দন বাজেয়াপ্ত করেছে এই স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। গ্রে’ফতার হয়েছে ৩৪২ জন পাচারকারী। চীন, জা’পান, সিঙ্গাপুর, সংযু’ক্ত আরব আমিরাত এবং অস্ট্রেলিয়ায় এই কাঠের বিপুল চাহিদা। তবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা চীনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.